বুধবারের ট্রেডের বিশ্লেষণ
GBP/USD পেয়ারের 1H চার্ট
বুধবার, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে এই প্রবণতাটি এখন কিছুটা অনিশ্চিত বলে মনে হচ্ছে। পূর্বে, আমরা উল্লেখ করেছিলাম যে টেকনিক্যাল কারণে দৈনিক চার্টে পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী কারেকশনের প্রয়োজন ছিল। তবে, বর্তমানে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধি অত্যধিক এবং অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক কিছু অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফল পাউন্ডকে সমর্থন করেছিল, তবে ইতিবাচক কোনো খবর না থাকা সত্ত্বেও পুরো সপ্তাহ জুড়ে পাউন্ডের মূল্য উচ্চ লেভেলে রয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই সপ্তাহে এখন পর্যন্ত কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এই সপ্তাহের মুভমেন্ট এখনো একটি ফ্ল্যাট মুভমেন্ট প্রতিফলিত করছে, যেখানে মূল্য 1.2613 এবং 1.2680 লেভেলের মধ্যে রয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই, বুধবার যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ছিল না। এছাড়াও, মার্কেটের ট্রেডাররা এখন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতির প্রতি কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা এ নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট
৫-মিনিটের চার্টে, আমরা মার্কেটে স্থবির অবস্থার মধ্যে তীব্র মুভমেন্ট লক্ষ্য করেছি। ১-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে মূল্য ফ্ল্যাট রেঞ্জের মধ্যে থাকলেও, ৫-মিনিটের চার্টে মূল্যের উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। বেশিরভাগ ট্রেডিং সিগন্যাল 1.2680-1.2685 লেভেলের কাছাকাছি গঠিত হয়েছে। প্রথমে, মূল্য এই লেভেল থেকে বাউন্স করেছে, এরপর একটি ফলস ব্রেকআউট ঘটেছে, তবে পরে এই লেভেলের নিচে মূল্যের কনসোলিডেশন নিশ্চিত হয়েছে। যদিও এই মুভমেন্টগুলোর ফলে মূল্য পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেনি, তবুও কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়নি, কারণ প্রতিবারই পাউন্ডের মূল্য অন্তত ২০ পিপস প্রত্যাশিত দিকে অগ্রসর হয়েছে।
বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের কৌশল:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, স্বল্পমেয়াদে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে, তবে গত কয়েক সপ্তাহের সকল মুভমেন্টই দৈনিক চার্টে একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। আমরা এখনও আশা করছি যে মাঝারি মেয়াদে পাউন্ডের মূল্য 1.1800 লেভেলের দিকে হ্রাস পাবে, কারণ এটিই সবচেয়ে যৌক্তিক সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই, দৈনিক টাইমফ্রেমে ঊর্ধ্বমুখী কারেকশন শেষ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
বৃহস্পতিবার, GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে, কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাউন্ডের মূল্য উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কয়েকদিন ধরে মূল্য সংকীর্ণ রেঞ্জে স্থবির রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও বিদ্যমান, তবে এই সপ্তাহে মূলত ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা গেছে। বুধবার ইতোমধ্যেই এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে।
৫-মিনিটের চার্টে, মূল পর্যবেক্ষণযোগ্য ট্রেডিং লেভেলগুলো হল 1.2164-1.2170, 1.2241-1.2270, 1.2301, 1.2372-1.2387, 1.2445, 1.2502-1.2508, 1.2547, 1.2613, 1.2680-1.2685, 1.2723, এবং 1.2791-1.2798। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট নেই, তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবশেষে সপ্তাহের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে চতুর্থ প্রান্তিকের জিডিপি এবং ডিউরেবল গুডস বা টেকসই পণ্যের অর্ডার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফলের প্রভাবে চলমান ফ্ল্যাট মার্কেট পরিস্থিতির অবসান ঘটতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যালের শক্তি: সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (বাউন্স বা লেভেলের ব্রেকথ্রু)। এটি গঠন করতে যত কম সময় লাগবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।
2) ভুল সিগন্যাল: যদি ভুল সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন খোলা হয় (যা টেক প্রফিট শুরু করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেট: ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ফলস সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যালের গঠন নাও হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়া উচিত।
4) ট্রেডিং টাইমফ্রেম: ইউরোপীয় সেশনের শুরু এবং মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেড ওপেন করা উচিত। এর বাইরে সমস্ত ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) MACD সূচকের সিগন্যাল: প্রতি ঘন্টার চার্টে, শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য ভোলাট্যালিটি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রবণতার মধ্যেই MACD থেকে প্রাপ্ত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা একটি ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।
6) কাছাকাছি লেভেল: যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
7) স্টপ লস: মূল্য 15 পিপস উদ্দেশ্যমূলক দিকে যাওয়ার পর, ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করা উচিত।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD (14,22,3) সূচক, হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে এবং এটি সিগন্যালের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা এবং প্রতিবেদন (সর্বদা নিউজ ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকে) যেকোন কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গতিশীলতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, এগুলো প্রকাশের সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ট্রেডিং করতে হবে। চলমান প্রবণতার বিপরীতে আকস্মিকভাবে মূল্যের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকতে মার্কেটে থেকে বের হয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ট্রেড থেকে লাভ হবে না। একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ ও কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।